জাকির হোসেন
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা-এর দেওপাড়া পাহাড় এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এক রহস্যময় গজারী গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়। এটি ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
এলাকাবাসীর দাবি, গাছটির বয়স কয়েকশ’ বছর। কেউ বলেন পাঁচশত বছর। আবার কারও মতে, এর বয়স এক হাজার বছরের কাছাকাছি। যদিও এ বিষয়ে সরকারি বা বৈজ্ঞানিক কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণা এখনো পাওয়া যায়নি। তবু দীর্ঘ সময় ধরে গাছটি স্থানীয় মানুষের কৌতূহল ও শ্রদ্ধার কেন্দ্র হয়ে আছে।
দেওপাড়া পাহাড়ের নিরিবিলি পরিবেশে বিশাল আকৃতির এই গজারী গাছ দূর থেকেই নজর কাড়ে। এর মোটা কাণ্ড, বিস্তৃত ডালপালা এবং পুরোনো ছাপ যেন অতীতের বহু ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষদের সময়েও গাছটি একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল।
গাছটিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথাও। এলাকাবাসীর মুখে মুখে একটি গল্প শোনা যায়। কথিত আছে, এক ব্যক্তি একসময় গাছটির একটি ডাল কাটেন। পরে রহস্যজনকভাবে তাঁর গলা দিয়ে রক্ত পড়ে মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। অনেকে এটিকে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাহিনি বলেই মনে করেন। তবে এই গল্পের কারণে গাছটিকে ঘিরে মানুষের মনে ভয় ও ভক্তি দুটোই তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কেউ সহজে গাছটির ক্ষতি করার সাহস করেন না। অনেকেই এটিকে আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি হিসেবে দেখেন। বয়স নিয়ে মতভেদ থাকলেও গাছটির প্রতি মানুষের আবেগ ও সম্মান নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই।
প্রকৃতিবিদদের মতে, দেশের প্রাচীন বৃক্ষগুলো শুধু পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এগুলো স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও অংশ। এমন গাছ সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে থাকতে পারে।
দেওপাড়ার এই গজারী গাছ এখনো নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের বহু পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এটি যেন পাহাড়ের বুকজুড়ে অতীতের এক জীবন্ত ইতিহাস বহন করে চলেছে।