গ্যাবোরোনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স রিলেতে নরওয়ের নারী দল প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয় করে ইতিহাস গড়েছে । গ্যাবোরোনের বোটসোয়ানার গরম উত্তাপে নরওয়ের নারী ৪x৪০০ মিটার রিলে দল ঠান্ডা হিমেল হাওয়ার মতো দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স রিলেতে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয় করেছে। জোসেফিন টমিন এরিকসেন আক্স, আমালি ইউয়েল, অ্যাস্ট্রি এরৎসগার্ড এবং হেনরিয়েট জেগারের এই চার সদস্যের দল ৩রা মে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বিশ্বসেরা এবং জাতীয় রেকর্ড সময় ৩:২০.৯৬ সেকেন্ডে শিরোপা ঘরে তোলে ।
এই চার অ্যাথলিটের দল গত বছর টোকিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিল। কিন্তু এবার বোটসোয়ানার মাটিতে তারা প্রায় তিন সেকেন্ড দ্রুত গতিতে দৌড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। হিট রাউন্ডে তারা ৩:২২.৭৮ সেকেন্ডে জাতীয় রেকর্ড গড়ে ফাইনালে ওঠে, যা ফাইনালে আরও উন্নত করে ৩:২০.৯৬ সেকেন্ডে সম্পন্ন করে ।
প্রতিযোগিতার শুরুতে স্পেন প্রথম লেগে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয় লেগে কানাডার লরেন গেল এগিয়ে যান, কিন্তু নরওয়ের ইউয়েল শক্তিশালী ফিনিশিংয়ে দলকে প্রথম স্থানে নিয়ে যান। তৃতীয় লেগে স্পেনের রোসিও অ্যারোয়ো এরৎসগার্ডকে পেছনে ফেললেও, শেষ লেগে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইনডোর ৪০০ মিটার ব্রোঞ্জ পদকজয়ী হেনরিয়েট জেগার ম্যাজিক তৈরি করেন। তিনি ৪৮.৯১ সেকেন্ডের অসাধারণ অ্যাঙ্কর লেগে স্পেনের ব্লাঙ্কা হেরভাসকে পেছনে ফেলে দলকে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন ।
নরওয়ের এই জয়ে পদক তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, যারা ৩:২১.২৫ সেকেন্ডে নতুন রেকর্ড গড়ে রৌপ্য পদক জয় করে। কানাডা ৩:২২.৬৬ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। অলিম্পিক ব্রোঞ্জ পদকজয়ী গ্রেট ব্রিটেন চতুর্থ এবং বিশ্ব ব্রোঞ্জ পদকজয়ী নেদারল্যান্ডস পঞ্চম স্থান অধিকার করে ।
এই জয় শুধু একটি পদকই নয়, বরং ২০২৭ সালের বেইজিং বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিটও নিশ্চিত করেছে নরওয়ের এই দলের জন্য। আমালি ইউয়েল জয়ের পর বলেন, “আমরা বেইজিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছি এবং এটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছর আগে আমরা পঞ্চম, আর গত বছর চতুর্থ হয়েছিলাম। এবার আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম যে পডিয়ামে উঠতে হবে এবং আমরা তা করেছি” ।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা জানতাম আমাদের একটি শক্তিশালী দল আছে এবং অবিশ্বাস্য কিছু করতে চলেছি। গতকালের রান-থ্রোতে সবাই খুব নার্ভাস ছিল, কিন্তু আজ জাতীয় রেকর্ড গড়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমরা জানতাম আরও দ্রুত দৌড়াতে পারি। এটি আমাদের রিলেতে প্রথম স্বর্ণপদক এবং এটি আমাদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করবে” ।
ইউরোপীয় অ্যাথলেটিক্স এই জয়কে “সপ্তাহান্তের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হেনরিয়েট জেগারের অ্যাঙ্কর লেগকে “নরওয়েজিয়ানদের ঐতিহাসিক স্বর্ণপদকের কাণ্ডারি” হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ।
বোটসোয়ানার গ্যাবোরোনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স রিলেতে নরওয়ের এই নারী দল তাদের ধৈর্য, দলগত সমন্বয় এবং ব্যক্তিগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, উত্তরাঞ্চলের এই ছোট দেশটিও বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের মঞ্চে বড় বার্তা দিতে পারে।