প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (১লা আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সার্জিও গর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বাংলাদেশ বিষয়ে বিদ্যমান ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের বার্তা পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। আগের দিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জবাবে সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিপণ্যের গুদামজাতকরণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ হলে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করতে পারে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদি আমিন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *