দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ঠা মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটি ছিল বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা।
মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া অস্থির ও দুর্বল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি বা অবসর—সবই আইন অনুযায়ী হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এতে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়া একটি আইনি অধিকার। তবে এসব ব্যক্তির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, যাতে তারা পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হত্যাসহ যেকোনো অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী জানান, ১লা মে থেকে দেশজুড়ে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এতে পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। বড় মাদক চক্র ও সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান সিন্ডিকেটকে টার্গেট করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। দীর্ঘদিনের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শার্টের রঙ আগের মতো থাকলেও প্যান্ট হবে খাকি রঙের। শিগগিরই এটি কার্যকর করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে মাদক চোরাচালান রোধ এবং নিরাপত্তা জোরদারে যৌথ বাহিনী কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশন নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে উঠেছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।