প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, দপ্তর প্রধান ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সংস্থার চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন।
সভায় দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরির কথা বলা হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত কার্যক্রম এনএসডিএ আইন অনুযায়ী পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ জন্য সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় এনএসডিএ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকার স্পষ্টতা নিয়েও আলোচনা হয়। দক্ষতা উন্নয়নে এনএসডিএ এবং কারিগরি শিক্ষায় বিটিইবির দায়িত্ব আলাদা করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিদ্যমান আইনি অস্পষ্টতা দূর করতে বিটিইবি আইন সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি (এমআরএ) সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদ নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত সনদ প্রদানের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক অ্যাসেসমেন্ট চালুর প্রস্তাব উঠে। পাশাপাশি ভাষাগত ও আচরণগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা পর্যায়ে ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও সনদায়নের জন্য বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বড় পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিল্পখাতের চাহিদার সাথে মিল রেখে কোর্স তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ জোরদারের কথাও বলা হয়।
এছাড়া এনএসডিএ’র অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং মান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনলাইন ও হাইব্রিড প্রশিক্ষণ চালুর নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। দেশের বড় জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।