ঢাকার জার্মান দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বাংলাদেশে কার্যরত জার্মান কোম্পানির শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
সংবর্ধনায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখনও অন্যতম। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর অর্থনীতিবিদ চন্দন সাপকোটা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় খাতগুলোও চিহ্নিত করেন। তার মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কার বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রোস্টার বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। তিনি ইউরোপীয় ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান। তার মতে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে। তবে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও ব্যবসা সহজীকরণ জরুরি।
বাংলাদেশে জার্মান বিনিয়োগ মূলত তৈরি পোশাক, প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কেন্দ্রীভূত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মান কোম্পানিগুলো সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্য আনতে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। এজন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।