পবিত্র মসজিদে নববী ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন দৃশ্য। দলবদ্ধভাবে লাল পোশাক পরে চলছেন একদল হাজি। দূর থেকে এটি যেন ‘লাল গালিচা’র মতো লাগে। কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়— এটি নিছক দৃশ্য নয়, বরং পরিকল্পিত শৃঙ্খলার প্রতিফলন।
এই হাজিরা মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে হজ ব্যবস্থাপনাতেও তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আলাদা মান তৈরি করেছে।
ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব বহুবার তুলে ধরা হয়েছে। কোরআনের ভাষায় মুমিনদের বলা হয়েছে ‘সিসাঢালা প্রাচীরের’ মতো একত্র থাকতে। ইন্দোনেশীয় হাজিদের এই অভিন্ন পোশাক সেই ধারণাকেই দৃশ্যমান করে। একই রঙ, একই গতি— দলগত পরিচয়কে আরও শক্ত করে।
হজে প্রতিবছর লাখো মানুষের ভিড় হয়। এই বিশাল জনসমুদ্র নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্দোনেশিয়ার হজ কর্তৃপক্ষ তাই কাফেলাভিত্তিক রঙ নির্ধারণ করে। লাল, সবুজ বা অন্য বাটিক পোশাক ব্যবহার করা হয়। এতে প্রতিটি দল সহজে চিহ্নিত হয়।
এটি শুধু পরিচয়ের জন্য নয়। হারিয়ে যাওয়া কমানো, দ্রুত সমন্বয় করা এবং জরুরি অবস্থায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।
ইন্দোনেশীয় হাজিরা দীর্ঘ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে হজে অংশ নেন। তাদের জন্য দেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকে। সেখানে দলগত চলাফেরা, সময় মেনে ইবাদত, এবং নেতৃত্ব অনুসরণের কৌশল শেখানো হয়।
ফলে মদিনা বা মক্কা— যেখানেই তারা থাকুন, একটি সুসংগঠিত কাঠামো চোখে পড়ে।
এই দলগুলোর মধ্যে বয়স্কদের প্রতি যত্ন বিশেষভাবে চোখে পড়ে। তরুণরা তাদের সহায়তা করে। দলনেতারা সার্বক্ষণিক নজর রাখেন। ফলে বিশাল ভিড়েও একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক সাফল্য নয়। এটি ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধের বাস্তব অনুশীলন।
হজ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়। এটি একটি বৈশ্বিক সমাবেশ। এখানে শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
ইন্দোনেশীয় হাজিদের ‘লাল গালিচা’ দৃশ্যটি সেই বার্তাই নতুনভাবে সামনে আনছে। বড় জনসমাগমেও শৃঙ্খলা সম্ভব— যদি পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং মানসিক প্রস্তুতি থাকে।