জ্বালানি সংকটে দেশ: তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

জাকির হোসেন

বাংলাদেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নতুন করে জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় এর প্রভাব স্পষ্ট। একদিকে সরবরাহ ঘাটতি, অন্যদিকে মূল্য বৃদ্ধি। এতে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নিম্নআয়ের মানুষ।

বিদ্যুৎ খাতে লোডশেডিং আবারও বেড়েছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে ছোট ব্যবসা ও কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম। অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না নিয়মিত। বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। কিন্তু এর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ভাড়া বেড়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এর একটি বড় কারণ। ডলার সংকটও আমদানি ব্যাহত করছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সমাজের দুর্বল অংশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। টাঙ্গাইল সদর এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু একটি আসনেই প্রায় ৩৩ হাজার প্রতিবন্ধী ও উপার্জন অক্ষম মানুষ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক দরিদ্র পরিবার খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়ছে। ভিক্ষাবৃত্তির হারও বাড়ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে।

সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগের কথা বলছে। এলএনজি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এর প্রভাব এখনো সীমিত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

সুশীল সমাজ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংকট সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *