পাঠকদের বহুভাষায় সক্ষম করে তোলা এবং সবার জন্য বইকে সহজপ্রাপ্য করার লক্ষ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ব দিবস। প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল দিনটি উদযাপন করে UNESCO।
এ বছরের প্রতিপাদ্যে গুরুত্ব পাচ্ছে ভাষাগত বৈচিত্র্য। বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞানকে সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে একাধিক ভাষায় পড়াশোনায় উৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে।
বিশ্বায়নের এই সময়ে ভাষা দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। গবেষকরা বলছেন, বহুভাষিক পাঠাভ্যাস মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতা বাড়ায়। এটি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া গভীর করে।
বিশ্ব গ্রন্থ দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব সুরক্ষা। লেখক, প্রকাশক ও সৃষ্টিশীল মানুষদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৃষ্টিশীল কাজের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে জ্ঞানচর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডিজিটাল যুগে বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ই-বুক, অডিওবুক এবং অনলাইন লাইব্রেরি জ্ঞানকে আরও বিস্তৃত করছে। তবে একই সঙ্গে পাইরেসি বা অবৈধ কপি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পাঠাভ্যাস বাড়াতে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বইমেলা, আলোচনা সভা এবং পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বইকে সহজলভ্য করা এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এতে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্ব গ্রন্থ ও মেধাস্বত্ব দিবস তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়। এটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।