পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক আয়োজন ফার্মা ওয়েস্ট আফ্রিকা ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এই আন্তর্জাতিক মেলায় প্রায় ২৫০টি ওষুধ কোম্পানি এবং ৫০টির বেশি দেশের প্রায় ৪,৫০০ পেশাজীবী অংশ নেন।
বাংলাদেশসহ ভারত, মিশর, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল এবারের আয়োজনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মেলা পশ্চিম আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান ওষুধ বাজারে প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
এবারের মেলায় বাংলাদেশের ১০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে আর্থিক সহায়তা দেয় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং সার্বিক সমন্বয় করে বাংলাদেশ হাই কমিশন আবুজা।
বাংলাদেশ হাইকমিশন মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের ওষুধ শিল্প নিয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্রোশিওর প্রকাশ করে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির দিকগুলো তুলে ধরা হয়।
মেলায় হাইকমিশন ও ইপিবি যৌথভাবে একটি বিশেষ বুথ পরিচালনা করে। সেখানে নাইজেরিয়া ও অন্যান্য দেশের সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা। তারা বাংলাদেশের ওষুধ খাত ছাড়াও তৈরি পোশাক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়া খাতের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও সরকারের দেওয়া প্রণোদনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। মেলার সময় হাইকমিশনের বুথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নাইজেরিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। দেশটি পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ECOWAS এবং আফ্রিকান কন্টিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া-এর মাধ্যমে বিস্তৃত বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নাইজেরিয়ায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করলে শুধু স্থানীয় বাজার নয়, পুরো আফ্রিকান অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পথ সহজ হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের মতে, নিয়মিত এ ধরনের মেলায় অংশগ্রহণ করলে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি বাড়বে এবং আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে ওষুধ খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা এই অঞ্চলে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক কৌশল ও ধারাবাহিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলে পশ্চিম আফ্রিকা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।