নওগাঁর নিয়ামতপুরে বৃহৎ বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বাগানে প্রায় ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) নিয়ামতপুর উপজেলার ১ নম্বর হাজীনগর ইউনিয়নের হাসুরা মৌজায় আয়োজিত চারা রোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বন বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির আওতায় ১৫ প্রজাতির প্রায় ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ স্ট্রিপ বাগানটি বিভিন্ন খাড়ির দুই পাড়জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে।
কর্মসূচির একটি অংশ ক্রসড্রাম থেকে বেলট্রি মৌজার রাজ্জাক চেয়ারম্যানের জমি পর্যন্ত বিস্তৃত। অপর অংশটি ভায়া হাসুরা মৌজার শিবেরশ্বরের জমি থেকে পলাশের জমি পর্যন্ত খাড়ির উভয় পাড়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বনায়ন আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। খাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানের পাশে বৃক্ষরোপণ পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি মাটির ক্ষয় রোধ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণেও সহায়ক।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বৃক্ষরোপণের পর চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোকে বড় করে তোলার দায়িত্বও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ামতপুরের এ বনায়ন কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে পারে। খাড়ির দুই পাড়ে বৃক্ষ আচ্ছাদন তৈরি হলে মাটির ক্ষয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশব্যবস্থাও আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
চারা রোপণ কর্মসূচিতে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।