দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং গুম-খুনের ঘটনা নিয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভার প্রথম দিনে এসব দাবি উঠে আসে। সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দলের নেতারা।
সভায় দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমসহ জাতীয় নেতারা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুম ও খুনের ঘটনাগুলো নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বর্ধিত সভায় অটোরিকশা নিয়ে চলমান সংকটেরও সমাধান দাবি করা হয়। দলের নেতারা বলেন, অটোরিকশার সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। একই সঙ্গে অনেক মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা।
এ কারণে অটোরিকশা নিয়ে এমন একটি সমাধান করা প্রয়োজন, যা যৌক্তিক, মানবিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সেবার মান বাড়ানোর জন্যও বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি জানান হাসনাত কাইয়ূম।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
দলটির নেতারা এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী বলে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য, জামানতের পরিমাণ এত বেশি বাড়ানো হলে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ কমে যাবে।
হাসনাত কাইয়ূম অবিলম্বে জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তার মতে, নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত রাখতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন আইন বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মামুন । এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।