কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চিকিৎসা পরিবেশ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চুরি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীরা যেন নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোতায়েন করা আনসার সদস্যরা হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, চুরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং রোগী ও তাদের স্বজনরা আরও নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালকে দালালমুক্ত, নিরাপদ ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোগী, স্বজন এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় হাসপাতালের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্যই নয়, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দালালচক্রের তৎপরতা কমাতে, বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ফরিদ আহমেদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি