চট্টগ্রামের রাউজানে হালদা নদীর তীরবর্তী ছাত্তারঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে নয়—হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানটি ছিল হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর আওতায় নদী তীরবর্তী মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ। এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, মাছের পোনা আহরণে যুক্তদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খুব শিগগিরই স্পিডবোট বিতরণ করা হবে। তবে এসব সহায়তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনোভাবেই অবৈধভাবে মা-মাছ বা পোনা আহরণ করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, হালদা নদীতে কৃষি সেচের জন্য নির্মিত স্লুইসগেটগুলো মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেচ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে পাম্প সরবরাহের বিষয়ও বিবেচনায় থাকবে।
নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে নদীতে না পড়ে সে বিষয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা। বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয় এবং ছাত্তারঘাট এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরাও অনুষ্ঠানে তাদের অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরেন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নদী সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে, অন্যদিকে নদী তীরবর্তী মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।