গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী-দমদমা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের ধস এবং নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রতিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ধসে পড়া সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নির্মাণকাজের মান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সড়ক ধসের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বা অনিয়মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজাবাড়ী-দমদমা সড়কটি ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্মিত কোনো সড়ক অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। নকশাগত ত্রুটি, দুর্বল মাটির ওপর যথাযথ ভিত্তি প্রস্তুত না করা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার অথবা নির্মাণকাজে তদারকির ঘাটতি—এসব কারণ এ ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য কারিগরি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
পরিদর্শনের সময় গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, এলজিইডি গাজীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা এবং প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের ফলে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।