রাহবারকে শেষ শ্রদ্ধা: বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেশভেদে ভিন্ন কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (রাহবার)কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি দুটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে ছিল আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল। দ্বিতীয় ধাপে ছিল নীরব পরিবেশে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং সম্মান প্রদর্শন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলকে ইরানি কর্মকর্তারা নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি হলে তাঁদের সম্মানে সামরিক মার্চ পাস্ট আয়োজন করা হয়। অন্য প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় পটভূমিতে সরাসরি সামরিক রণসংগীত বাজানো হয়।

প্রতিনিধিরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর পরিবেশ সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যায়। এরপর একজন ইরানি ক্বারী সরাসরি কুরআন তিলাওয়াত করেন। জানা যায়, প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় প্রেক্ষাপট এবং শাহাদাতের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত নির্বাচন করা হয়।

সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সামনে সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। আয়াতে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত মুমিনদের সঙ্গে অবিশ্বাসীদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এবং আল্লাহর সাহায্যের কথা উল্লেখ রয়েছে।

কাতারের প্রতিনিধি দলের জন্য সূরা আল-ফাতহের প্রথম তিন আয়াত পাঠ করা হয়। এসব আয়াতে সুস্পষ্ট বিজয়, আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর সাহায্যের ঘোষণা রয়েছে।

ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের সামনে সূরা আল-ইসরার প্রথম আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। এতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত মহানবী (সা.)-এর রজনী ভ্রমণের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। মসজিদুল আকসার গুরুত্বের কারণে এই আয়াত নির্বাচন করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সামনে সূরা আলে-ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। এসব আয়াতে আল্লাহর পথে নিহতদের মৃত না বলে জীবিত উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক এবং সুসংবাদের কথাও বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত আয়াতগুলোর নির্বাচন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে প্রতিটি দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আয়াত নির্বাচনের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কুরআনের নির্দিষ্ট আয়াতের মাধ্যমে প্রতীকী বার্তা দেওয়ার কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছে। এবারের অনুষ্ঠানেও সেই ধারার প্রতিফলন দেখা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *