বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
১লা জুলাই ২০২৬ তারিখে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ–জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বের দৃঢ় ভিত্তির কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি গুরুত্ব পায়। এছাড়া বিমানবন্দর উন্নয়ন, মহেশখালী–মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব প্রকল্পকে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের আওতায় ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি বাজেট সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় আসে। এই সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্পায়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাইকা ভবিষ্যতেও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। টেকসই প্রবৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং উচ্চমানের অবকাঠামো নির্মাণে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।