মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফেরা কর্মীদের পুনর্বাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ


বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি কর্মীদের পুনর্বাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৮শে জুন) মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সংকটে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, নতুন কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মাধ্যমে এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ (ওইইপি) উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে প্ল্যাটফর্মটিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টালের উন্নয়ন এবং একটি মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও ভালোভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি এবং নির্মাণ খাতে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি বড় সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বাস দেন, সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মীতে পরিণত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন অ্যান্ড প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার, আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দারসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *