কুমিল্লায় ‘সি আর পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন

আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাভিত্তিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সি আর পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টার। উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে প্রায় একশত রোগীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৬শে জুন ) সকাল ১০টায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিসপেন্সারি কাম বাণিজ্যিক ভবনের নিচতলায় নতুন এই চিকিৎসাকেন্দ্রের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. পরিমল চন্দ্র রায়। প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. হারুন অর রশিদ (অব.), যিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক রূপক চন্দ্র রায়, এমফিল (রিসার্চ স্কলার) ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, সি আর পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টারের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. বনশ্রী সাহা, পিএইচডি (রিসার্চ স্কলার)।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে কোমর, ঘাড়, হাঁটু ও কাঁধের ব্যথা, স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা, প্যারালাইসিস, ফেসিয়াল প্যালসি, স্নায়বিক সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথাজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এসব সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা ও রোগীর কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে আধুনিক ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই গবেষণাভিত্তিক ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রধান অতিথি ডা. এম. হারুন অর রশিদ বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিজিওথেরাপি অনেক রোগের ক্ষেত্রে অপরিহার্য চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। সময়মতো দক্ষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক রোগী অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন এবং সেবার মান ধরে রাখার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি রোগীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গবেষণানির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ বক্তা সহকারী অধ্যাপক রূপক চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়া নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক আধুনিক ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে রোগীর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।”

উদ্বোধন উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা, প্যারালাইসিস, ঘাড় ও কোমরের ব্যথা এবং ফেসিয়াল প্যালসিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় একশত রোগীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

সেবাগ্রহীতারা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ ও চিকিৎসা পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা চিকিৎসাকেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং এর আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম ও সেবার মানের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, নতুন এই কেন্দ্রটি কুমিল্লাসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ফিজিওথেরাপি সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথাজনিত রোগ ও চলাচলজনিত সমস্যার চিকিৎসায় সময়মতো সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ রোগীর সুস্থতা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই লক্ষ্যেই গবেষণাভিত্তিক এই নতুন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসক ও অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *