রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তুরস্কের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে তুরস্কের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

সোমবার (২২শে জুন) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি তার কার্যালয়ে তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টের সভাপতি ড. ফাতমা মেরিচ ইলমাজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মানবিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৪ থেকে ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এটি দেশের জন্য একটি বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তাই রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি এ বিষয়ে তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের সভাপতি ড. ফাতমা মেরিচ ইলমাজ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এত বড় সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি জানান, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ।

বৈঠকের শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তুরস্কের রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করছে। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *