বাংলাদেশে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারির প্রায় ৮০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক ও অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীসা দূষণের কারণে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (২০শে জুন) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে “এভিডেন্স টু একশন : ইকোনমিক এন্ড পলিসি পাথওয়েস ফর এ সেফার লিড-এসিড ব্যাটারী সার্কুলার ইকোনমি ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পিউর আর্থ বাংলাদেশ এবং ইউএনসিটিএডি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সেমিনারে তুলে ধরা হয়, দেশের ব্যাটারি খাতে অনিয়ন্ত্রিত পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমের কারণে বিপুল পরিমাণ সীসা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এই দূষণ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সীসা বিষক্রিয়ার কারণে গর্ভপাত ও গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সমস্যা মোকাবিলায় শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক ও নীতিগত সংস্কারও জরুরি। এ লক্ষ্যে ব্যাটারির উৎস ও চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা চালু, ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, মানসম্মত লেবেলিং ও ভোক্তা তথ্য প্রদান, শুল্ক ও বাজার প্রণোদনা সংস্কার, কম দূষণকারী আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এছাড়া পিউর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমৃতা কুন্ডু এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিকা প্ল্যামবেক প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা রহমান।
সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আইইডিসিআরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশে নিরাপদ, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। তাই ব্যাটারি খাতকে একটি নিরাপদ ও টেকসই বৃত্তাকার অর্থনীতির আওতায় আনতে সরকার, শিল্পখাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।