বিএমএ থেকে কমিশন পেলেন ১৮৪ নবীন কর্মকর্তা, উদ্বোধন হলো ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে যুক্ত হলো আরও ১৮৪ জন নবীন কর্মকর্তা। তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিএমএ-তে নবগঠিত ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের উদ্বোধন এবং কয়েকটি নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন, প্যারেডের সালাম গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

এবারের কোর্স থেকে কমিশন পাওয়া ১৮৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন ক্যাডেটও বিএমএ-তে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন।

৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর বিএমএ-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। পরে তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন, যা সামরিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএ-তে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এরও উদ্বোধন করেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি নতুন এই ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে।

একই দিনে সেনাবাহিনী প্রধান ভাটিয়ারিতে নবনির্মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্প প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং নবীন কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর সম্প্রসারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ। একই সঙ্গে বিদেশি ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *