কুনমিং ফোরামে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত ৭ম চায়না–সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বাংলাদেশের সংসদের ডেপুটি স্পিকার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিকের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যে চীনকে বেছে নিয়েছেন, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে। একই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাতে ব্যবহার করেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর করা জরুরি। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক ঋণ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য অস্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি চীনকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সংযোগ, বাণিজ্য করিডোর, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানো উচিত। তাঁর মতে, “ডিজিটাল হাইওয়ে” এবং সীমান্তপারের অর্থনৈতিক সংযোগ ভবিষ্যতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফোরামে আরও বক্তব্য দেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভূটানের প্রতিনিধিরা, পাশাপাশি সার্কের মহাসচিব। আলোচনায় আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রাজনৈতিক সংলাপ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।

একই সফরে বাংলাদেশি সংসদীয় প্রতিনিধি দল ১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশকে “থিম কান্ট্রি” হিসেবে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ৯০টি দেশের অংশগ্রহণে কুনমিংয়ে বড় আকারের বাণিজ্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ৮০টিরও বেশি প্যাভিলিয়ন এতে অংশ নিচ্ছে বলে জানানো হয়।

সফর চলাকালে বাংলাদেশি সংসদীয় দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সম্ভাব্য বড় প্রকল্প—যেমন তিস্তা ব্যারেজ—নিয়ে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।

চীনা পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বলে প্রতিনিধি দল জানায়। বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা চীনা নেতাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা তারা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

সফরে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা ছিলেন, যা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় বহুপক্ষীয় প্রতিনিধিত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ধরনের ফোরাম ও প্রদর্শনী দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *