কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়া সক্ষমতাকে আরও দৃশ্যমান করতে স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসিকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
মঙ্গলবার (৯ই জুন) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মুখোমুখি হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত দল ও বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে গঠিত ডিপ্লোম্যাটিক কোর টিম।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক নিজেই মাঠে নেমে খেলায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ক্রীড়াকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।
ম্যাচে তিউনিশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইতালি, সুইডেন ও ইরানের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে খেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলাররা। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক বিশ্বে কূটনীতি আর শুধু বৈঠককক্ষের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই বাস্তবতায় স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি বিভিন্ন দেশের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রীড়াকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বিদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রীতি ম্যাচ সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করে না; একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামো, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আগ্রহও তুলে ধরে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন এবং ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের আশা, মাঠের এই বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও সহায়ক হবে।