মাঠের খেলার আগে সীমান্তের লড়াই, বিশ্বকাপে ভিসা নিয়ে তোলপাড়

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনের আগেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশাধিকার বাতিল এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মধ্যে।

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো কাজ করছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে একের পর এক ঘটনার কারণে বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে ঘিরে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন  তাকে ২০২৫ সালের সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে ফিফা জানায়, তিনি আর টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে “ভেটিং সংক্রান্ত উদ্বেগ” বলে উল্লেখ করেছে।

ইরান জাতীয় দলও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। দলটির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা ভিসা পাননি। ফলে দলটিকে মেক্সিকোতে অবস্থান করতে হচ্ছে এবং শুধু ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। একই সময়ে দলের একজন ফটোগ্রাফারও প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর ভিসাও শেষ মুহূর্তে পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়। ফলে তিনি নির্ধারিত সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের যাত্রাও বিলম্বিত হয়েছে। প্রতিনিধি দলের একটি অংশের কাগজপত্র ও ভ্রমণ অনুমোদন নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরিকল্পনার তুলনায় অনেক পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়।

সেনেগাল দলের কয়েকজন কর্মকর্তা বিমানবন্দরে দীর্ঘ তল্লাশির শিকার হন। তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

সমস্যা শুধু খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্কটল্যান্ডের কিছু সমর্থক, যারা সাধারণত  ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে পারেন, তাদের ভ্রমণ অনুমোদন শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু সমর্থক টিকিট ও আবাসনের জন্য আগে থেকেই অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু পরে তাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি আয়োজন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ও সীমান্ত নীতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফিফা বারবার বলছে, ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আয়োজক দেশের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। তবে চলমান ঘটনাগুলো বিশ্বকাপের উৎসবমুখর পরিবেশের বদলে প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *