ভুয়া খবর, অপতথ্য এবং ডিজিটাল ঝুঁকি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করা নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত সমাধান এবং একটি কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।
শনিবার (৬ই জুন) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ভুয়া খবর মোকাবিলায় নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভুয়া খবর, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান বা ‘ই-সেফটি প্ল্যান’ প্রয়োজন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের এ বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
তার মতে, ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তিনি বলেন, সঠিক নীতিনির্ধারণ, শক্তিশালী নীতিগত কাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করলেও এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এআই অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ভুয়া খবর শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে অপতথ্য প্রতিরোধ আগের তুলনায় কঠিন হয়ে গেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ডেটা নিরাপত্তাও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা কাঠামোও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর সিদ্ধান্ত ছাড়া আধুনিক বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সদস্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “সমস্যা নিয়ে আলোচনা অনেক হয়েছে। এখন সময় সমাধানের। আমি একটি সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী জাতীয় কর্মপরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করছি।”
বৈঠকে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন, বিএনপির তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে ভুয়া খবর প্রতিরোধে আইনি কাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিক সচেতনতা—এই চারটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা গেলে বাংলাদেশে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।