
ইউরোপের সান মারিনোতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন তপু বর্মণ।
বিদেশের মাটিতে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির সমর্থনে উজ্জীবিত দলটি শুধু জয়ই পায়নি, মাঠের খেলায়ও দেখিয়েছে নতুন এক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ফুটবলে যে অগোছালো ও সরাসরি লং বলনির্ভর কৌশল দেখা যেত, সান মারিনোর বিপক্ষে তার পরিবর্তে দেখা গেছে পরিকল্পিত বিল্ড-আপ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মবিশ্বাসী পাসিং ফুটবল।
ম্যাচের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বলের দখল ধরে রাখার সক্ষমতা। প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। ডিফেন্স থেকে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং মিডফিল্ডে ত্রিভুজাকৃতি পাসিং নেটওয়ার্ক তৈরি করে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট।
আক্রমণভাগেও দেখা গেছে উন্নতির ছাপ। উইং ব্যবহার করে সংগঠিত আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি বক্সে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও মুভমেন্ট ছিল অনেক বেশি সমন্বিত। শেখ মোরসালিনদের ওভারল্যাপিং রান এবং নির্ভুল ক্রস থেকে তপু বর্মণদের গোলের সুযোগ তৈরি হওয়া ছিল সেই পরিকল্পনারই অংশ।
দ্বিতীয়ার্ধে সান মারিনো আক্রমণের গতি বাড়ালে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। সোহেল রানা সিনিয়রের পরিবর্তে কাজেম শাহকে মাঠে নামানো হয়। বদলি হিসেবে নেমেই তিনি রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং প্রতিপক্ষের একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট করে দেন। তার উপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রেসিংও আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
ম্যাচে বাংলাদেশের ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তাও নজর কেড়েছে। অতীতে ম্যাচের শেষ দিকে গতি হারানোর প্রবণতা থাকলেও এবার গোল হজম করার পরও দল ভেঙে পড়েনি। বরং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সেই আত্মবিশ্বাসই জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে।
এই জয়কে অনেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। টমাস ডুলির অধীনে দল যে আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলার চেষ্টা করছে, তার প্রথম ইতিবাচক ফল মিলেছে সান মারিনোর বিপক্ষে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কতটা স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কোচকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে দেশের ফুটবলে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় তাই শুধু তিন পয়েন্টের সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের ফুটবলের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতেরও একটি শক্তিশালী বার্তা।