মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদ নিয়ে এখন এক নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জর্ডানের আল-আকসার তত্ত্বাবধানের ভূমিকা শেষ করার পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা জর্ডানের জন্য এক অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে — রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় যদি এই পবিত্র স্থান রক্ষার জন্য যুদ্ধে যান, তাহলে তাঁর দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মিত্র পেতে পারে।
১৯৯৪ সালের ওয়াদি আরাবা চুক্তির (ইসরায়েল-জর্ডান পীস ট্রিটি ) মাধ্যমে জর্ডান জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডের (হারাম আল শরীফ) তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জর্ডানের হাশেমাইট রাজবংশের ওপর ন্যস্ত। এটি জর্ডানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের এক কেন্দ্রীয় অংশ।
কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মিডল ইস্ট আই-এর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই পরিকল্পনার আলোচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সামনে এখন দুটি কঠিন বিকল্প:
কূটনৈতিক পথ: শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করে আল-আকসার তত্ত্বাবধান রক্ষা করার চেষ্টা। কিন্তু এই পথে ট্রাম্প প্রশাসন ও নেতানিয়াহু সরকারের বিরোধিতার মুখে সফলতা অনিশ্চিত।
সামরিক/কঠোর পথ: আল-আকসা রক্ষার জন্য আরো সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি জর্ডান এই পথ বেছে নেয়, তাহলে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জনগণ তাদের পাশে দাঁড়াবে। “যদি রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় পবিত্র স্থান রক্ষার জন্য যুদ্ধে যান, তাহলে তাঁর দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মিত্র পেতে পারে।”
এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক উদ্বেগ তৈরি করেছে:
-জর্ডানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা: দেশটির জনসংখ্যার বড় একটি অংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। আল-আকসার তত্ত্বাবধান হারালে সরকারের ওপর জনগণের চরম চাপ তৈরি হবে।
আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া: সৌদি আরব, মিসর ও অন্যান্য আরব দেশের প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়, কিন্তু জনগণের স্তরে সমর্থনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েল-জর্ডান সম্পর্ক: দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে আল-আকসা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। ২০২৩ সালে এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে উত্তেজনা বাড়ায় ইসরায়েল ও জর্ডানের সম্পর্ক আরো বেশি তিক্ত হয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে:
জর্ডানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে । আরব বিশ্বে নতুন করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে ।ইসরায়েলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন করে পরীক্ষিত হবে । সকলে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে
আল-আকসা মসজিড ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। এর তত্ত্বাবধান নিয়ে যে কোনো পরিবর্তন শুধু জর্ডানের জন্যই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক অস্তিত্বগত প্রশ্ন। রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় যে পথই বেছে নিন না কেন, তার সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: Middle East Eye, Axios, Siasat.com