ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল দেশগুলোর একটি সুইডেন। বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির মতো শিরোপা-সমৃদ্ধ না হলেও বড় আসরে দলটির ইতিহাস সম্মানজনক। তারা একবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়ার রেকর্ডও আছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইডেনকে আগের মতো ধারাবাহিক দেখা যায় না। বড় টুর্নামেন্টে জায়গা পেতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে দলটিকে। তবুও ইউরোপ অঞ্চল পেরিয়ে বিশ্বকাপে আসা মানেই কঠিন প্রতিযোগিতা অতিক্রম করা। সেই কারণেই সুইডেনকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এবার গ্রুপ এফে সুইডেনের প্রতিপক্ষ জাপান, নেদারল্যান্ডস ও তিউনিসিয়া। গ্রুপটি যথেষ্ট কঠিন। তাই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা সহজ হবে না।
তবে সুইডেনের বড় ভরসা তাদের আক্রমণভাগ। দলে আছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক। তার গতি, পজিশনিং ও ফিনিশিং যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য হুমকি। ক্লাব ফুটবলে ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও তার গুরুত্ব কমেনি। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইসহাক পুরো ছন্দে থাকলে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন একাই।
সুইডেনের নতুন আক্রমণাত্মক শক্তি হয়ে উঠছেন ভিক্টর গিওকেরেস। শক্তি, গতি ও গোল করার দক্ষতায় ইতোমধ্যেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। ইসহাকের সঙ্গে তার জুটি সুইডেনকে ভয়ংকর করে তুলতে পারে।
আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম অ্যান্থনি এলাঙ্গা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এলেংগা ক্যারিয়ারের শুরুতেই আলোচনায় আসেন। পরে ফর্ম হারিয়ে মূল দল থেকে ছিটকে পড়লেও ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। তার সবচেয়ে বড় শক্তি গতি ও উইং দিয়ে আক্রমণ তৈরি করা। কাউন্টার অ্যাটাকে এলেংগা যেকোনো দলের জন্য বড় বিপদ হতে পারেন।
সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সমর্থক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে কৌশলগতভাবে পরিণত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পুরোনো ধাঁচের ৪-৪-২ ফর্মেশনেই দল সাজাতে পারেন। কারণ ইসহাক ও গায়োকার্সের মতো দুই স্ট্রাইকার থাকলে দুই ফরোয়ার্ড নিয়ে নামাই যৌক্তিক।
তবে সুইডেনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মাঝমাঠ। দলে সৃজনশীল মিডফিল্ডারের অভাব স্পষ্ট। ইসহাক মূলত বক্সভিত্তিক স্ট্রাইকার। তিনি নিচে নেমে বল তৈরি করার চেয়ে ফিনিশিংয়ে বেশি কার্যকর। তাই তাকে কার্যকর রাখতে হলে মাঝমাঠ থেকে মানসম্মত বল সরবরাহ জরুরি।
এলেংগাকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে খেলানো সম্ভব হলেও উইংয়ে তিনি বেশি কার্যকর। কারণ সেখান থেকে মাঠ বড় করতে পারেন। কিন্তু তখন মাঝমাঠে শক্তিশালী হোল্ডিং মিডফিল্ডারের প্রয়োজন হয়। সুইডেনের বর্তমান স্কোয়াডে সেই জায়গাটিই তুলনামূলক দুর্বল।
রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নাম ভিক্টর লিন্ডেলফ। তবে তার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ট্যাকলের ভুল টাইমিংয়ের অভিযোগ আছে। আধুনিক ফুটবলে যেখানে মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ম্যাচ বদলে দেয়, সেখানে ডিফেন্সিভ টাইমিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সুইডেনের বড় শক্তি তাদের এরিয়াল সক্ষমতা। দলে বেশ কয়েকজন দীর্ঘকায় ফুটবলার আছেন। কোচ পটার সেট-পিস ও ক্রস থেকে সুযোগ তৈরিতে দক্ষ। এলেংগা বা উইং থেকে আসা ক্রস ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে ইসহাক কিংবা গায়োকার্স সহজেই গোল করতে পারেন।
সব মিলিয়ে সুইডেন হয়তো শিরোপার বড় দাবিদার নয়। কিন্তু আক্রমণাত্মক ও গতিময় ফুটবল খেলার সামর্থ্য তাদের আছে। কঠিন গ্রুপে পড়লেও এই দলকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সুযোগ পেলে সুইডেন চমক দেখাতেই পারে।