দেশে একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। অনলাইন দলিল নিবন্ধন চালু হলেও এই জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল সমস্যার জায়গা হলো দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম এখনো একসঙ্গে সংযুক্ত নয়।
বর্তমানে একজন ব্যক্তি কোনো জমি বিক্রি করার পরও আগের খতিয়ান ও খাজনা খারিজের কাগজ ব্যবহার করে আবার সেই একই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারছেন। কারণ রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে জমির মালিকানা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয় না। এতে প্রতারণার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু দলিল রেজিস্ট্রি অনলাইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় নামজারি বা অটো মিউটেশন চালু করতে হবে। তাহলেই একই জমি বারবার বিক্রির পথ বন্ধ হবে।
বর্তমানে দলিল রেজিস্ট্রির পর নতুন মালিককে আলাদা করে নামজারির আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস কেটে যায়। এই সময়ের মধ্যেই অসাধু চক্র একই জমি আবার বিক্রি করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রমকে একটি আন্তঃসংযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে। জমি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতার হোল্ডিং থেকে জমির পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে যাবে। একই সঙ্গে ক্রেতার নামে নতুন নামজারি হবে। তখন বিক্রেতার নামে ওই জমি আর অবশিষ্ট থাকবে না।
তারা বলছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলে যেমন চেক বা লেনদেন সম্পন্ন হয় না, তেমনি হোল্ডিংয়ে জমি না থাকলে দলিল রেজিস্ট্রিও সম্ভব হবে না।
ভূমি খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এখনো রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসের তথ্য পুরোপুরি সমন্বিত নয়। এই সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত ভূমি জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।
তাদের মতে, অটো নামজারি চালু করা গেলে শুধু প্রতারণাই কমবে না, ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও ভোগান্তিও অনেক কমে আসবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরাপদ সেবা পাবেন।