যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প–এর সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্ব পরিস্থিতি, দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ব এখন এমন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা “এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি” এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
বৈঠকে শি জিনপিং প্রশ্ন তোলেন—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুরোনো ফাঁদ থেকে বের হয়ে নতুন ধরনের বৃহৎ শক্তির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে? বিশ্বব্যাপী নানা সংকট মোকাবিলায় দুই দেশ কি একসঙ্গে কাজ করতে পারবে? একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের জনগণের স্বার্থ ও মানবজাতির ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চীনা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে “থুসিডিডিস ট্র্যাপ” প্রসঙ্গও উঠে আসে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ধারণা ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একটি উদীয়মান শক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা সংঘাতের দিকে এগোয়। শি জিনপিং ইঙ্গিত দেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে সেই পথ এড়িয়ে সহযোগিতার নতুন মডেল গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অভিন্ন স্বার্থের পরিমাণ বেশি। এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, “আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।”
শি জিনপিং মনে করেন, স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তিনি ২০২৬ সালকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য “ঐতিহাসিক ও মাইলফলক বছর” হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, দুই দেশের নেতৃত্ব যদি সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।