পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকতে হেলথ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সৈকত এলাকায় লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৩ই মে) সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় অংশ নেয় কক্সবাজারের সি-সেইফ লাইফগার্ড সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB) এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা রয়েল ন্যাশনাল লাইফবোট ইন্সটিটিউশন (RNLI)।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতিমালার সংশোধন জরুরি। তিনি জানান, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর সৈকতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাতে কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সৈকতে কর্মরত লাইফগার্ডের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, আপাতত করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে লাইফগার্ড সেবা চালু রাখা হবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়, CIPRB ও RNLI-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, RNLI-এর আর্থিক সহায়তায় CIPRB ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবছর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই সৈকতে লাখো পর্যটক ভিড় করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।