দিনাজপুর সোনালী ব্যাঙ্ক প্রিন্সিপাল অফিস সাউথের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলির বিনিময়ে টাকা গ্রহণ সহ নানাবিধ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর সোনালি ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিস সাউথে কর্মরত ওমর কাইয়ুম সাউথের বিভিন্ন শাখায় বদলী করে দেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ক্ষেত্রে তিনি কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। সিবিএর নেতা হওয়ার ফলে সরকারে নাম ভাঙ্গিয়ে ওমর কাইয়ুম ও তার সিন্ডিকেট এই কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
ওমর কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এসেছে যে, সে টাকা নিয়ে গ্রাহককে নিয়ম বহির্ভূত ঋণ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে যা ব্যাংক খাতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এসএস টু পদে কর্মরত ওমর কাইয়ুম দিনাজপুর সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিস সাউথের সিবিএর নেতা বনে যান। এরপর সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে কাকে কোথায় বদলি করতে হবে আর কাকে ঋণ দিতে তার তালিকা তৈরি করে সিনিয়র কর্মকর্তাদের হাতে ধরিয়ে দিতে থাকে। তার দেওয়া তালিকা অনুসারে কর্মকর্তাদের বদলী না করা হলে বা তার মনোনীত ব্যক্তিদের ঋণ প্রদান না করা হলে সে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রছন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি তিনি একজন মহিলা কর্মকর্তাকে দিনাজপুর কর্পোরেট শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলী করে দেন। কারণ উক্ত কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুমের অন্যায় আদেশের সামনে মাথা নত করেননি। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করছে দিনাজপুর সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসের এজিএম আজিতুল্ল্যাহ ।
আজিতুল্ল্যাহ এর বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অভিযোগ। তিনি একদিকে সোনালী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেটা পরিশোধ করেননি। যার ফলে কর্মরত ব্যাংকে তিনি নিজেই একজন ঋণ খেলাপি। এছাড়াও তিনি মাসে মাত্র দুইদিন ব্যাংকে আসেন তাঁর বেতন ভাতা তুলতে ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পোস্টিং এর কাজে।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। তবে চাকরিগত কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।