আন্তর্জাতিক দাবায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেও পর্যাপ্ত পেশাদার প্রস্তুতির অভাবকে আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়। সেই বাস্তবতা বদলাতে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন।
১৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উজবেকিস্তানের সামারকন্দে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৬তম ফিদে চেস অলিম্পিয়াড । এই আসরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা অলিম্পিয়াড দলের জন্য এক মাসব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ফেডারেশন। দেশের দাবার ইতিহাসে এমন পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাভিত্তিক আবাসিক ক্যাম্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্যাম্পে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল, যিনি বাংলাদেশ মহিলা অলিম্পিয়াড দলের অধিনায়কও। প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও ফিদে মাস্টার মেহেদি হাসান পরাগ।
শুধু দাবা অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ নয় এই ক্যাম্পের কার্যক্রম। খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত দাবা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রাখা হয়েছে ফিটনেস ট্রেনিং, মেডিটেশন, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিভিন্ন ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে প্রতিদিন রাতে খেলোয়াড়দের মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে তারা অনুশীলনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে পারেন।
ক্যাম্প শেষে বাংলাদেশ মহিলা অলিম্পিয়াড দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দেশের শীর্ষ দাবাড়ুদের অংশগ্রহণে একটি রাউন্ড-রবিন টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। অলিম্পিয়াডের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ খেলোয়াড়দের ম্যাচ প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান কোচ আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত প্রাক-প্রতিযোগিতা প্রস্তুতি এবং ফিটনেসের ঘাটতি। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন যখন জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা করে, তখন আমি ও ফিদে মাস্টার মেহেদি হাসান পরাগ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ এর সঙ্গে আলোচনা করে এই আবাসিক ও পেশাদার কাঠামোর প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিই। তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং সেই পরিকল্পনাই আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
বিশ্বের দাবাশক্তিধর দেশগুলোর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের জন্য আবাসিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশে অবশ্য অধিকাংশ প্রশিক্ষণ এখনো সীমিত সময়ের ক্লাসকেন্দ্রিক। ফলে বর্তমান উদ্যোগটি দেশের দাবায় আরও পেশাদার প্রস্তুতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও একটি ক্যাম্প দিয়েই আন্তর্জাতিক সাফল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ধারাবাহিকভাবে এমন উদ্যোগ চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দাবার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি এবং শক্তিশালী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লে দেশের দাবাড়ুরা বিশ্বমঞ্চে আরও ভালো ফল করার সক্ষমতা অর্জন করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা অলিম্পিয়াড দলের সদস্যরা
- মহিলা ফিদে মাস্টার নোশিন আঞ্জুম
- মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার ওয়াদিফা আহমেদ
- মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার ওয়ালিজা আহমেদ
- মহিলা ক্যান্ডিডেট মাস্টার নুসরাত জাহান আলো
- মহিলা ফিদে মাস্টার ওয়ারশিয়া খুশবু
সামারকন্দে অনুষ্ঠিতব্য ৪৬তম ফিদে চেস অলিম্পিয়াড -এ বাংলাদেশের নারী দল এই প্রস্তুতির ইতিবাচক প্রতিফলন দেখাতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই এখন দেশের দাবাপ্রেমীদের।