মানুষের দাঁতের ওপর প্রতিদিনই অদৃশ্য এক ধরনের আঠালো স্তর তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় প্লাক (Plaque)। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার পাতলা স্তর, যা খাবারের কণা ও লালার সঙ্গে মিশে দাঁতের গায়ে জমতে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই প্লাকই ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে দাঁতের ‘পাথর’ বা টার্টারে পরিণত হয়।
দন্ত চিকিৎসকদের মতে, দাঁতে জমে থাকা টার্টারের আরেক নাম ডেন্টাল ক্যালকুলাস (Dental Calculus)। এটি একবার শক্ত হয়ে গেলে সাধারণ ব্রাশ বা মেসওয়াক দিয়ে সহজে সরানো যায় না। তখন ডেন্টিস্টের মাধ্যমে স্কেলিং করাতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার না করলে প্লাকের সঙ্গে লালায় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফেট মিশে যায়। এতে প্লাক শক্ত হয়ে পাথরের মতো স্তর তৈরি করে। অনেক সময় ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
টার্টার জমতে থাকলে দাঁত হলদেটে দেখায়, মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয় এবং মাড়িতে প্রদাহ বা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে মাড়ির রোগও হতে পারে।
দন্ত স্বাস্থ্যসচেতনদের মতে, কিছু সাধারণ অভ্যাস দাঁতের পাথর জমা কমাতে সাহায্য করতে পারে—
- অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার কম খাওয়া। কারণ মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনিকে ব্যবহার করে দ্রুত প্লাক তৈরি করে।
- খাবারের কিছু সময় পর দাঁত পরিষ্কার করা বা মেসওয়াক করা।
- আপেল, গাজরসহ শক্ত ও আঁশযুক্ত ফল খাওয়া। চিবিয়ে খাওয়ার সময় এগুলো দাঁতের উপরিভাগ কিছুটা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।
- সপ্তাহে একদিন অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা ও লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে।
- নারিকেল বা সরিষার তেল দিয়ে কিছু সময় কুলি বা দাঁত ম্যাসাজ করার অভ্যাস অনেকেই অনুসরণ করেন। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
- পর্যাপ্ত পানি পান মুখের ভেতর পরিষ্কার রাখতে সহায়ক।
নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সচেতনতা—এই তিনটিই সুস্থ দাঁত ও মাড়ি রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।