নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ রয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে।
জানা গেছে, বৃষ্টি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা তে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি-সংক্রান্ত একটি প্রোগ্রামে যুক্ত ছিলেন।
সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে বৃষ্টি ও তার সঙ্গে থাকা ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ে সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য মেলেনি।
ঘটনাটি জানানো হয়েছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে। কনস্যুলেট সূত্র বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানার পর তারা পুলিশকে অবহিত করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে পরিবার।
সহপাঠীরা বলছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আকাশ স্মৃতি নামের এক সহপাঠী জানান, বন্ধুর নিরাপদ ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন কাটছে সবার।
নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেহা নুর রুবেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
পরিবার, সহপাঠী ও বন্ধুরা বৃষ্টির নিরাপদ ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।