ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ঊর্ধ্বতন সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির বিচার বিভাগীয় বার্তা সংস্থা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম মেহেদী ফরিদ। তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার সাজা বহাল রাখে।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেহেদী ফরিদ সংবেদনশীল তথ্য পাচারের চেষ্টা করেছিলেন।
তার লক্ষ্য ছিল—
- সিভিল ডিফেন্সের কাঠামোগত তথ্য
- গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নকশা
- শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য
এই তথ্য তিনি মোসাদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি এসব কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে। বর্তমানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
রাজধানী তেহরান-এ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধবিরোধী ও প্রতিরোধমূলক বার্তা সংবলিত ম্যুরাল দেখা গেছে।
গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়াও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৃত্যুদণ্ড একটি কৌশলগত বার্তা। এটি মূলত দুইটি লক্ষ্য সামনে রেখে দেওয়া হয়েছে—
- নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে ভীতি তৈরি
- বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করা
তাদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অস্বাভাবিক নয়। তবে এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা আপসহীন।
মেহেদী ফরিদের মৃত্যুদণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ইরানের বর্তমান নিরাপত্তা নীতির প্রতিফলন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই কঠোর হচ্ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থান।