গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস পালন

জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানে CIRDAP মহাপরিচালক ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস ২০২৬ পালন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএইউ)। মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মহাপরিচালক হোসে ড. পি. চন্দ্র শেখারা। বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন অপরিহার্য। গ্রামীণ মানুষের নানা সমস্যা মোকাবিলায় সিরডাপ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন সিরডাপ মহাপরিচালক। তিনি শিক্ষার্থীদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পণ্যের মূল্য সংযোজনের মতো খাতে সম্ভাবনা খুঁজে দেখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান ড. মুনিরা পারভিন মুন। পরে শিক্ষার্থীদের নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল ইসলাম। তাঁর উপস্থাপনার বিষয় ছিল—‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইজ দ্য ফাউন্ডেশন অফ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’।

অনুষ্ঠানে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দল কার্বোডিট-এর সাফল্যও উদযাপন করা হয়। দলটি সিরডাপ আয়োজিত রিডস ইন্টারন্যাশনাল রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

আয়োজকেরা বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই করতে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতাকে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

সিরডাপ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর গ্রামীণ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনী ও টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *