ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই সংশোধন হবে কোম্পানি আইন

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে কোম্পানি আইন সংশোধন নিয়ে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতবিনিময় সভা।

ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি আইন মূলত ব্যবসায়ীদের জন্যই প্রযোজ্য। তাই ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই আইনটি আধুনিক করা প্রয়োজন।

মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’–এর খসড়া নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কোম্পানি আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। অথচ এই সময়ে ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগের কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

তার মতে, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বর্তমান আইনকে আধুনিক করা জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর কোম্পানি আইনগুলোর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যেসব দেশে ব্যবসা পরিচালনা তুলনামূলক সহজ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আইন সংস্কারে কাজে লাগানো যেতে পারে।

কোম্পানি আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনটি যেহেতু ব্যবসায়ীরাই ব্যবহার করবেন, তাই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে এই সময় আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তবে দ্রুত মতামত দিয়ে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব কোম্পানি আইন প্রণয়নে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

এলডিসি উত্তরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সংস্কারের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষায়, কোম্পানি আইন সংস্কার বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের আইন ও ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে এমন প্রস্তাব দিতে হবে, যা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক।

মতবিনিময় সভায় ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’–এর খসড়া প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বারভিডার সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আগামী ৩০ দিনে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করে কোম্পানি আইন সংশোধনের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *