বাংলাদেশ-নেপাল পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর বৈঠক

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত উদ্যোগে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

রোববার (৬ই সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো ঘটনাগুলোর প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়ে।

আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় নেপালে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রস্তুতির কথাও জানান মন্ত্রী।

জবাবে দুর্ঘটনার পর নেপালের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই পক্ষের মতে, যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ হলে উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা। এ ধরনের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন উভয় পক্ষ।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *