ভিনি’র জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করা সেলেসাওরা শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, মাঠের খেলাতেও নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই জয়ের নায়ক ছিলেন ভিনি জুনিয়র। টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে উন্নীত করে তিনি আবারও ব্রাজিলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে স্কটল্যান্ড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ভিনি দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলকে স্বস্তির অবস্থানে নিয়ে যান। গোলের পর কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে তার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উদযাপন দর্শকদেরও উচ্ছ্বসিত করে তোলে।

ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। গোলের পর তিনি কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে নিজের পরিচিত ‘সার্ফিং’ উদযাপন করেন, যা ইতোমধ্যেই তার স্বাক্ষর ভঙ্গিতে পরিণত হয়েছে। অবসর সময়ে সার্ফিং অনুশীলন করা এই ফরোয়ার্ড মাঠের খেলাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

একই সময়ে মরক্কো হাইতিকে ৪-২ গোলে হারালেও গোল পার্থক্যে ব্রাজিলের নিচেই থেকে যায়। ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলের।

তবে ব্রাজিলের সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক ছিল তাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স। স্কটল্যান্ড আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জুটি প্রতিপক্ষের আক্রমণ বারবার ভেঙে দেয়। দুই প্রান্তে ডগলাস সান্তোস ও দানিলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

মিডফিল্ডেও ছিল ব্রাজিলের আধিপত্য। ক্যাসিমিরো, লুকাস পাকেতা এবং ব্রুনো গুইমারেসের সমন্বয় পুরো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে তৃতীয় গোলটির নির্মাণ ছিল দলের সমন্বিত ফুটবলের দৃষ্টান্ত। পাকেতার হেড থেকে বল পেয়ে ক্যাসিমিরো একটি নিখুঁত থ্রু পাস দেন ব্রুনো গুইমারেসকে। এরপর নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার বুদ্ধিদীপ্তভাবে বল বাড়িয়ে দেন কুনহার কাছে, যিনি চিপ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।

বিশ্বকাপে আসার আগে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা ঘিরে ছিল ব্রাজিলকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, আনচেলোত্তির দল ততই পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলগত সমন্বয়ও এখন তাদের অন্যতম শক্তি।

নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান বা সুইডেন। প্রতিপক্ষ যেই হোক, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখতেই হবে। শিরোপা জয়ের পথে এখনও বড় পরীক্ষা বাকি থাকলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল এখন অন্যতম প্রধান দাবিদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *