মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের তেল রপ্তানিতে নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিদেশে পাঠিয়েছে দেশটি।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের উপকূলের কাছে আরও বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজে তেল বোঝাই করা হয়েছে। এসব জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহগুলোতেও রপ্তানির উচ্চ প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানির এই উল্লম্ফন উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে নয়। উপগ্রহচিত্র এবং স্বয়ংক্রিয় জাহাজ শনাক্তকরণ (AIS) তথ্য পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান মূলত আগে থেকে সংরক্ষিত তেলের মজুত দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ছে।
গত মে মাসে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সে সময় ইরানের সমুদ্রবাণিজ্যের ওপর মার্কিন চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তেলবাহী ট্যাংকার, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে দেশটির তেল রপ্তানি বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, তখন দৈনিক রপ্তানি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে স্থলভাগের সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে নোঙর করা ট্যাংকারে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে আসছে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূল হলে বা ক্রেতাদের চাহিদা বাড়লে দেশটি দ্রুত সেই তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়। বর্তমান রপ্তানি বৃদ্ধিও সেই কৌশলের অংশ হতে পারে।
বিশ্ববাজারে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে চীনা পরিশোধনাগারগুলো ইরানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইরানের এই অতিরিক্ত রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞা নীতির ওপর দেশটির তেল বাণিজ্যের গতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের রপ্তানি প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতিতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।