কানাডার সঙ্গে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কানাডার সঙ্গে ১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। এর আওতায় কানাডা অস্ট্রেলিয়ার উন্নত ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডার প্রযুক্তি গ্রহণ করবে। এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় কানাডা একটি দীর্ঘ-পাল্লার নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা পাবে। এই রাডার নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ আর্কটিক অঞ্চল পর্যন্ত নজরদারি সক্ষমতা বাড়াবে। উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিক অঞ্চল বর্তমানে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে আকাশ ও সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা এখন কানাডার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কানাডা সমমানের একটি মার্কিন রাডার ব্যবস্থার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি বেছে নিয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডার প্রচলিত রাডারের তুলনায় অনেক বেশি দূরত্বে নজরদারি করতে পারে। সাধারণ রাডার পৃথিবীর বক্রতার কারণে সীমিত দূরত্ব পর্যন্ত কার্যকর থাকে। কিন্তু এই প্রযুক্তি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে আয়নমণ্ডল থেকে সংকেত প্রতিফলিত করে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।

অস্ট্রেলিয়ার এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে প্রায় চার দশকের গবেষণা ও উন্নয়ন। দেশটির বিখ্যাত জিনডালি অপারেশনাল রাডার নেটওয়ার্ক এই প্রযুক্তির অন্যতম সফল উদাহরণ। এটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আকাশ ও সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নতুন চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। ২০২৪ সালে জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ‘বক্সার’ সাঁজোয়া যান চুক্তি ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি। কানাডার সঙ্গে বর্তমান ১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা সেই রেকর্ডকে অনেক ব্যবধানে অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে কানাডার উত্তরাঞ্চল ও আর্কটিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন মাত্রা দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *