রোববার (২১শে জুন) চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের এই কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
এবারের ব্যাচে ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ৭ জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসারসহ মোট ৬১ জন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া দুইজন বিদেশি কর্মকর্তাও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে কমিশন অর্জন করেন, যা নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে পদক বিতরণ করা হয়। মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি মিডশিপম্যান জিহাদ এ. এম. সালাহ সেরা চৌকশ বিদেশি মিডশিপম্যান হিসেবে ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক’ অর্জন করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করেন। এ সময় তারা মাতৃভূমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের বিস্তৃত সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব বিকাশ, অপারেশনাল সক্ষমতা এবং পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন শক্তি যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নৌবাহিনীর এই নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তারা এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তাদের প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব এবং পেশাগত দক্ষতা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।