কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা অন্যটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়। বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে মঙ্গলবার (৯ই জুন) অনুষ্ঠিত “ডায়লগ অফ কাইন্ড্রেড স্পিরিট” শীর্ষক বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালমনাই (এবিসিএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্ব একটি জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভুল বোঝাবুঝি, পারস্পরিক দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের মনোভাব বিশ্বজুড়ে বিভাজন তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয় যে সভ্যতার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই; বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমেই মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমাত্রিক উন্নয়ন দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’ (জিসিআই)-কে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। এই উদ্যোগ সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব নতুন নয়। প্রাচীন সিল্ক রোড থেকে শুরু করে বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক অবদান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমানে এই সম্পর্ক ‘ব্যাপক কৌশলগত সমবায় অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে।
সেমিনার শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যোগাযোগ, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে দুই দেশের ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় তারা ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি এবং বইয়ের প্রদর্শনও ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিসেবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার বিকাশ এবং বাংলাদেশ-চীনের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।