বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা বঙ্গোপসাগর ক্রমেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। সামুদ্রিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে এ অঞ্চলের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহও বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় অবস্থিত ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজ পরিদর্শন করেছেন নেদারল্যান্ডসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। তার সঙ্গে ছিলেন ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়া বিষয়ক পরিচালক ডোমিনিক কুহলিং।
সফরকালে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম এবং কেন্দ্রের উপদেষ্টা তারেক এ. করিম।
বৈঠকে কেন্দ্রটির বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একটি উপস্থাপনা করা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের একটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই জলভাগ সরাসরি যুক্ত। আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নীল অর্থনীতি, সমুদ্রসম্পদ আহরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্র নিরাপত্তা, অবাধ নৌ-চলাচল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিভিন্ন দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক আইন এবং নীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে আসছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত তারেক এ. করিম আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, নেদারল্যান্ডসের মতো সামুদ্রিক বাণিজ্যে অভিজ্ঞ দেশের প্রতিনিধিদের এ ধরনের সফর বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে সমুদ্রভিত্তিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বন্দর উন্নয়ন এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সে কারণেই এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
বিকল্প শিরোনাম:
- বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে আইইউবিতে ডাচ প্রতিনিধিদলের আলোচনা
- আঞ্চলিক সংযোগ ও নীল অর্থনীতি: বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আগ্রহ
- বঙ্গোপসাগর এখন বৈশ্বিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু, বলছে বিশেষজ্ঞরা
- বাংলাদেশে
- ইন্দো-প্যাসিফিক বাস্তবতায় নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে বঙ্গোপসাগর