বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নাকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রকাশিত হয়েছে কিশওয়ার চৌধুরীর নতুন বই স্মোক এন্ড রাইস ওয়াটার । খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে আগ্রহী পাঠক ও গবেষকদের মধ্যে বইটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বইটি কোনো ফরমায়েশি রেসিপির সংকলন নয়। বরং বাংলাদেশের রান্নার বৈচিত্র্য, ইতিহাস, আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য এবং পারিবারিক খাদ্যঐতিহ্যকে এক মলাটে তুলে ধরার একটি উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশের রান্না নিয়ে এ ধরনের বিস্তৃত ও গবেষণাভিত্তিক কাজ আগে খুব কমই হয়েছে।
বইটিতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের পরিচিত ও জনপ্রিয় নানা খাবারের রেসিপি। এর মধ্যে রয়েছে পান্তাভাত, টমেটোর টক, টোস্ট বিস্কুট, আমের ভর্তা, নানখাতাই, কাঁচা আম দিয়ে মাছের ঝোল এবং গরুর মাংসের বিভিন্ন পদ। শুধু রেসিপিই নয়, এসব খাবারের পেছনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা কিশওয়ার চৌধুরী গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতা মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া-তে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। সেখানে তিনি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশি খাবার তুলে ধরে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।
খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে এখনও অনেকেই বাংলাদেশি ও ভারতীয় রান্নাকে একই ধারার খাবার হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের রান্নার নিজস্ব স্বাদ, উপকরণ, রান্নার কৌশল এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্য রয়েছে। স্মোক এন্ড রাইস ওয়াটার সেই স্বতন্ত্র পরিচয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বইটি পড়লে সহজেই বোঝা যায় যে এটি দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশের রান্নার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরতে লেখক বিভিন্ন অঞ্চল, পরিবার ও ঐতিহ্যের গল্প সংগ্রহ করেছেন।
অনেক পাঠকের মতে, বইটি শুধু একটি রান্নার বই নয়; এটি বাংলাদেশের খাদ্যঐতিহ্যের একটি দলিল। বিশেষ করে বিদেশে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বইটি হতে পারে নিজের শিকড় ও সংস্কৃতিকে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বাংলাদেশে একসময় যেমন সিদ্দিকা কবিরের রান্নার বই প্রায় প্রতিটি ঘরে দেখা যেত, তেমনি ভবিষ্যতে স্মোক এন্ড রাইস ওয়াটারও বাংলা খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক পাঠক ও খাদ্যপ্রেমী।