মুক্তিপণ, নির্যাতন ও বন্দিজীবন শেষে দেশে ফিরছেন ১৭৪ প্রবাসী

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে করে ১ জুন ২০২৬ ভোর ৪টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) ও প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনের আগে অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তারা মানবপাচারের শিকার হওয়ার করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই জানান, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে ইউরোপে যাওয়ার আশায় লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের হাতে জিম্মি হন তারা।

প্রত্যাবাসিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অনেককে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কেউ কেউ পরিবারের জমি-জমা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটের মধ্যেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে বলে জানান তারা।

অভিবাসীরা ভবিষ্যতে আর কখনো এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন।

রাষ্ট্রদূত হাবীব উল্লাহ প্রত্যাবাসিতদের দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি তাদের নিজ নিজ এলাকায় অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি এবং মানবপাচারের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন, যাতে আর কেউ দালালচক্রের প্রতারণার শিকার না হন।

তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন শুধু ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নয়, দেশের জন্যও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এ কারণে বিদেশে যেতে হলে বৈধ ও নিরাপদ পথ অনুসরণ, সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দেশে ফিরে সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এবং লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়া সরকার, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *