জাকির হোসেন
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং মোবাইল ব্যাংকিংভিত্তিক প্রতারণার নতুন ফাঁদে পড়ে ভাতার টাকা হারিয়েছেন টাঙ্গাইলের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া তিন মাসের বকেয়া ভাতার অধিকাংশ অর্থ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার একটি এলাকায় বসবাস করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি ক্রাচের সাহায্যে চলাফেরা করেন এবং একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার পরিবারের দাবি, এই দোকান এবং সরকারি ভাতাই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২১শে মে রাতে তার মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা আসে। সেখানে জানানো হয়, প্রতিবন্ধী ভাতার তিন মাসের বকেয়া বাবদ মোট ২ হাজার ৭৯২ টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
পরদিন শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীর মেয়ের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী নিজেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, ভাতার কার্ড আপডেট বা পরিবর্তন করতে হবে। এ সময় তিনি বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে মোবাইল ফোনে কয়েকটি বাটন চাপতে বলেন।
সরল বিশ্বাসে নির্দেশনা অনুসরণ করার কিছুক্ষণ পরই অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৬৪০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। পরে পরিবারটি বুঝতে পারে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু টাকা অবশিষ্ট ছিল বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, ঘটনার সময় তিনি বুঝতে পারেননি কীভাবে টাকা চলে গেছে। পরে লেনদেনের তথ্য দেখে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, “এই ভাতার টাকাটা আমার খুব প্রয়োজন ছিল। দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এখন কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, গ্রামের সাধারণ মানুষ, বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে কম জানা মানুষজন প্রতিনিয়ত এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি কখনো ফোনে পিন নম্বর, ওটিপি কিংবা গোপন তথ্য জানতে চান না। এছাড়া অপরিচিত কারও নির্দেশে মোবাইল ফোনে কোনো কোড বা বাটন চাপার আগে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে। তাই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসন, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।