কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে ফ্রান্স

নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় এনজিও প্রকল্প পরিদর্শন ফরাসি প্রতিনিধির

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় হোস্ট সম্প্রদায়ের জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ফরাসি ইউরোপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ও মানবিক বিষয়ক উপ-পরিচালক ফ্রানকোইজ পুইগ-ইঞ্জা। সফরে তিনি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিয়ে কাজ করা দুটি এনজিও প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

ফ্রান্সের সহায়তায় কক্সবাজার অঞ্চলে কাজ করছে ফ্রেন্ডশীপ এবং একশন এগেইনস্ট হাঙ্গার। প্রতিষ্ঠান দুটি মূলত স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশুদের জন্য এসব সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উখিয়ায় অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল উখিয়া সফরের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। হাসপাতালটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকেও বিশেষ মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এটি নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে নারীরা গর্ভকালীন সেবা, প্রসূতি চিকিৎসা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছেন। সীমিত সম্পদের মধ্যেও হাসপাতালটি অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে।

ফরাসি প্রতিনিধি আরও পরিদর্শন করেন নলবানিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক। এটি একটি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক, যেখানে একশন এগেইনস্ট হাঙ্গার অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লিনিকটির সেবাগ্রহীতাদের বড় অংশ স্থানীয় হোস্ট সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা এখানে পুষ্টি সহায়তা ও চিকিৎসা পাচ্ছেন।

বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি মানবিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেও স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা সেবা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস জানিয়েছে, কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং মানবিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *